কুয়াশার মধ্যে শহরের নজর
বিভিন্ন জীবের মধ্যে মানুষের সঙ্গী প্রাণী হিসেবে কুকুরের অবদান একটি বিশেষ অধ্যায়। এই ব্যতিক্রমী প্রাণীগুলি শুধুমাত্র আমাদের মনোরঞ্জন করে না, বরং তাদের শারীরিক ও মানসিক প্রবণতায় গভীর সন্তানতা প্রকাশ করে। একটি কুকুর কখনো কখনো ঠিক যেমন অনুগত, তেমনই হতে পারে পরিপ্রেক্ষিতভিত্তিক চেতনা।
এই ছোট্ট কুকুরটি যখন জানালার পাশে দাঁড়িয়ে শহরের দৃশ্য উপভোগ করছে, তখন তার মধ্যে একটি আশ্চর্য বিষয় ঘটে। কুকুরের প্রাচীন উলঙ্গবসন, যা তার পূর্বপুরুষদের শিকারী জীবনের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছিল, আজও তাদের আচরণে প্রতিফলিত। জানালার বাইরে দেখার সময় কুকুরটি যেন শিকারী আত্মা ধরে রেখে চুপচাপ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে, তার চোখে সেই প্রাচীন যুক্তির তাড়না। কুকুরের অসামান্য দৃঢ়সংকল্প পরিবেশের কারণেও তাদের স্মৃতির গভীরতা নির্দেশ করে।
এগুলো কুকুরের আচরণের পিছনে সহজাত জীববৈজ্ঞানিক বৈশিষ্ট্য। তারা মূলত স্নেহময় এবং সতর্ক, যা তাদের সামাজিক জীবনে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কুকুরগুলি প্রায় ৩০,০০০ বছর ধরে মানুষের সঙ্গে আবদ্ধ; এদের মস্তিষ্কের কিছু অংশ মানুষের মতোই কাজ করে, যা তাদের উৎকৃষ্ট সহযোগিতা এবং সহানুভূতির এক ধরনের ভিত্তি গড়ে তোলে। তাই যখন আপনি জানতে পারেন যে, আপনার সঙ্গীটি শুধু একটি কুকুর নয়, বরং বন্ধুত্বের একটি অনন্য গুনসম্পন্ন প্রতীক, তখন বাস্তবতা কিছুটা ভিন্ন মনে হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, কুকুরেরা মানুষের কার্যকলাপ এবং আবেগের প্রতি সাড়া দিতে পারে এবং শিকারের খোঁজে তারা সংগঠিতভাবে চলতে পারে। তাছাড়া, তাদের আচরণের একটি বিশেষত্ব হলো যে, সন্তানদের প্রতি মায়া ও যত্নশীলতা। এমন সব বৈশিষ্ট্য কেবল তাদের কিউট ইমেজকে নয়, বরং তাদের সঠিক আচরণও নির্দেশ করে।
প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ তাদের কুকুরকে পরিবারের সদস্য মনে করেন। এটা ভাবতে অবাক লাগে, কুকুরের অভিযোজন আমাদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। শহরের দৃশ্যের সঙ্গে একা বসে থাকা একটি কুকুরের বিনিময়ে প্রতিদিন প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ তাদের সুখী করার জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য লাভ করে। এটি শুধু একটি সংখ্যা নয়; এটি একটি সম্পর্কের সূচনা।