একটি বিশেষ সঙ্গী
কুকুরের প্রতি মানুষের প্রচণ্ড আকর্ষণ মোটেও অযৌক্তিক নয়। এটি একটি জীবন্ত উদাহরণ, যেখানে কোষের গঠন থেকে শুরু করে সামাজিক আচরণ পর্যন্ত, সবকিছু মিলিয়ে একটি অসাধারণ জীবের উদ্ভব ঘটেছে। কুকুরের আচরণ গবেষণায় দেখা গেছে, তারা মাত্র ১৫,০০০ বছর ধরে মানুষের সাথে রয়েছে, একটি দীর্ঘ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ইতিহাস।
বিশেষ করে পিপঁজার মতো প্রবল তরঙ্গহীনতা ও আন্তঃসম্পর্কিত আচরণগুলো আদিম শিকারী জীবনের সাক্ষ্য দেয়। বাড়ির পরিবেশে, কুকুরগুলো নিজেদের ইচ্ছা, আবেগ এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তন করে। তারা একসাথে থাকতে ভালোবাসে—স্বাধীন ভাবে কিংবা পাশাপাশি বসে থাকা, যা দ্যোতক করে তাদের অনুরাগজনক প্রকৃতির।
এই ছোট্ট প্রাণীটির শারীরিক গঠন তাদের আচরণের প্রকাশের অন্যতম কারণ। তাদের চোখের আকৃতি কিংবা শরীরের ব্যবহার, সবই আমাদের সাথে যোগাযোগের একটি বিশেষ মাধ্যম। আর তাই তো আমরা হাঁটতে বেরুলে কিংবা পার্কে খেলতে গেলে, একজন কুকুর যেন আমাদের সঙ্গী হয়ে যায়—একটি দৃঢ় বন্ধনে পরিণত হয়।
কুকুরের প্রজাতির মধ্যে বিভক্তির বিশালতার একটি দৃষ্টান্ত সারা বিশ্বে প্রায় ৩৪০টি স্বীকৃত প্রজাতি। এদের থেকে ছোট আকৃতি থেকে শুরু করে বড় আকৃতি, সবই মানুষের পরিবেশের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। মানুষ যুগ যুগ ধরে এই অকৃত্রিম বন্ধনের মধ্য দিয়ে আরো কাছে এসেছে। বৈজ্ঞানিক গবেষণা বলে, কুকুরের সাথে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের একটি বিশেষাত্মক অংশ তাদের বেড়ে ওঠা আমলে।
বাংলাদেশে, যেখানে শহুরে পরিবেশের বৈশিষ্ট্য কুকুরদের চরিত্রকে প্রভাবিত করেছে, সেখানে তাদের আচরণ এবং প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। ৪২% কুকুরের স্কুলিয়া প্রশিক্ষণ অনুসারে, সৌম্য আচরণ, প্রেমময় সম্পর্ক এবং খেলার মাধ্যমেই ভালো বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। এই সম্পর্কের গুরুত্ব অযৌক্তিক নয়; এটি আমাদের সমাজের অন্তর্ভুক্তির প্রমাণ।